শুক্রবার, ১০ Jul ২০২৬, ০৫:১০ অপরাহ্ন

ঠাকুরগাঁওয়ে পশুর হাটগুলোতে মানা হচ্ছেনা স্বাস্থ্যবিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : কোরবানিকে সামনে রেখে জমে উঠতে শুরু করেছে ঠাকুরগাঁও জেলার পশুর হাটগুলো। কিন্তু কোন স্বাস্থ্যবিধিই মানা হচ্ছেনা।

হাটগুলোতে মাস্ক, হ্যান্ডগ্লোভস ছাড়াই ও সামাজিক দূরত্ব না মেনেই চলছে পশুর কেনাবেচা। পশুর হাটগুলো যেন করোনাভাইরাস সংক্রমণের ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

অন্যদিকে হাটগুলোতে পশুর কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করা হচ্ছেনা। হাটগুলোতে নেই কোন পশু রোগ নির্ণয় করার ব্যবস্থা। নেই কোন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পশু ডাক্তার বা পর্যবেক্ষণ টিম।

এমন দৃশ্য দেখা গেছে- সদর উপজেলার বড়খোচাবাড়ি, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার লাহীড়ি হাটসহ জেলার বিভিন্ন পশুর হাটগুলোতে।

জেলায় এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ২২৭ জন মানুষ, মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। অন্যদিকে জেলায় ল্যাম্পি স্কিন ভাইরাসে আড়াই হাজার গবাদি পশু আক্রান্ত হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে ২০টি গরুর।

করোনাভাইরাসের কারণে ক্রেতা কম হওয়ায় ও গরুর ল্যাম্পি স্কিন ভাইরাসের কারণে গরুর দাম এখনো অনেক কম। গত বছরে যে গরু বিক্রি হতো ৪০-৪৫ হাজার টাকায় সে গরু এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ হাজার টাকায়।এ নিয়ে গরু ব্যবসায়ীরাও চরম হতাশাগ্রস্ত।

হাট ইজারাদার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই পশু ক্রয়-বিক্রয় করার কথা স্বীকার করে বলছেন, তারা জনগণকে সচেতন করার জন্য মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করছেন। এমন কি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের র্নির্বাহী কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটরাও হাটবাজারগুলোতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনাসহ স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে অনেককে জরিমানাও করছেন। কিন্তু তারপরেও জনগণ তা মানছেন না।

সদর উপজেলার ১৭ নং জগন্নাথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আলাল মাস্টার তার নিজের অপারগতার কথা স্বীকার করে বলেন, জনগণ যদি নিজেই সচেতন না হয় তাহলে একজন চেয়ারম্যানের পক্ষে জনগণকে সচেতন করা সম্ভব না।

অন্যদিকে সচেতন নাগরিকরা বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলার পশুর হাটগুলো মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে আখ্যায়িত করে বলেন, যে হারে দিন দিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে আর পশুর হাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে পশু কেনা-বেচা করা হচ্ছে এতে করোনা সংক্রমণ ও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকবে।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলতাফ হোসেন জানান, কোরবানির ১৫ দিন আগ থেকে গরুর হাট গুলোতে তাদের মেডিক্যাল টিম কাজ করবে। ইতোমধ্যে জেলার প্রতিটি উপজেলায় মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। ক্রেতা ও বিক্রেতারা উভয়ে যাতে উপকৃত হয় তার জন্য গরুর হাটগুলোতে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি জানান, এবার কোরবানির জন্য জেলায় ৮০ হাজার ৫শ’ গবাদি পশু রিষ্ট-পুষ্ট করা হয়েছে।

তিনি জানান, ল্যাম্পি স্কিন ভাইরাসে আক্রান্ত গরু সুস্থ হয়ে গেলে সেই গরুর মাংস খাওয়া যাবে। আক্রান্ত গরুর মাংস খেলেও সেটা মানব দেহে প্রভাব ফেলার আশঙ্কা নেই। কারণ ল্যাম্পি স্কিন ভাইরাসটি ৬০-৬৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় বেঁচে থাকতে পারে না। আর আমরা রান্না করে খাই প্রায় ১৭০ ডিগ্রি তাপমাত্রায়।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল ও মানুষের আয় রোজকার ঠিক রাখার জন্য এই হাটগুলোকে খুলে দেওয়া হয়েছে। হাট মানেই জনসমাগম। তার পরেও যতটা সম্ভব সকলে যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে তার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও ইউপি চেয়ারম্যানদের কেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য।

তিনি সকলকে কোরবানির গরু অনলাইনে ক্রয় বিক্রয় করার অনুরোধ করেন। অনলাইলে গরু ক্রয় বিক্রয় করলে হাটে মানুষের সমাগম কম হবে। তাহলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সহজ হবে বলে জানান তিনি।

নগরকন্ঠ.কম /এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com